নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পরিবেশবিদ। অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি এবং রাশিয়ার মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকত্তোর ডিগ্রী অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড, এমোরি, এবং সেন্ট জোন্স বিশ্ববিদ্যালয়, এবং জাপানের কিয়ুশু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। পরবর্তীতে তিনি জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির রূপান্তর, এবং উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয়ে মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন। পরিবেশের বিভিন্ন দিক, বিশেষত নদনদীর ব্যবহার সম্পর্কিত আলোচনাকে সুগম করার জন্য তিনি এক নতুন ধারণা-কাঠামো উত্থাপন করেছেন যা পৃথিবীর নদী বিশেষজ্ঞদের কর্তৃক সমাদৃত হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, ও সমাজ নিয়ে তাঁর রয়েছে ব্যাপক গবেষণা। এ পর্যন্ত তাঁর গবেষণাভিত্তিক রচিত এবং সম্পাদিত বইয়ের সংখ্যা ৩৫, যার মধ্যে বাংলায় ২০টি এবং ইংরেজিতে ১৫টি। বাংলায় লেখা গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে জাসদের রাজনীতি – একটি নিকট বিশ্লেষণ (১৯৮১), বাংলাদেশের উন্নয়ন সমস্যা (১৯৮৭), বাংলাদেশের গ্রাম – অতীত ও ভবিষ্যত (২০১১), আগামী দিনের বাংলাদেশ (২০১২), পুঁজিবাদের পর কী (২০১৪/২০২৪), সাম্যবাদের ভবিষ্যত (২০২০), আগামী বাংলাদেশের জন্য দশ করণীয় (২০২৫), উন্নয়নের জন্য সুশাসন (২০২৫), এবং বাংলাদেশের রাজনীতি – সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (২০২৫)। ইংরেজি গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে Resurgent China: Issues for the Future (2009), Growth and Productivity across Nations (2016), Economies in Transition: China, Russia, Vietnam (2016), Let the Delta Be a Delta (2016), Rivers and Sustainable Development (2020), Water Development in Bangladesh: Past Present and Future (2022)। গবেষণার পাশাপাশি নজরুল ইসলাম বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজেও সক্রিয়। তিনি অভিবাসী বাংলাদেশীদের সংগঠন “বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন)”র প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) গঠনের উদ্যোক্তা। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত “সমাজ গবেষণা কেন্দ্রে”র তিনি প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক এবং এখনো এই সংগঠনের কাজে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করছেন। বইমেলার সাথে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা। ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত বইমেলারও তিনি আহ্বায়ক ছিলেন।
