নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬-এর আহ্বায়ক

নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পরিবেশবিদ। অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি এবং রাশিয়ার মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকত্তোর ডিগ্রী অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড, এমোরি, এবং সেন্ট জোন্স বিশ্ববিদ্যালয়, এবং জাপানের কিয়ুশু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। পরবর্তীতে তিনি জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির রূপান্তর, এবং উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয়ে মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন। পরিবেশের বিভিন্ন দিক, বিশেষত নদনদীর ব্যবহার সম্পর্কিত আলোচনাকে সুগম করার জন্য তিনি এক নতুন ধারণা-কাঠামো উত্থাপন করেছেন যা পৃথিবীর নদী বিশেষজ্ঞদের কর্তৃক সমাদৃত হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, ও সমাজ নিয়ে তাঁর রয়েছে ব্যাপক গবেষণা। এ পর্যন্ত তাঁর গবেষণাভিত্তিক রচিত এবং সম্পাদিত বইয়ের সংখ্যা ৩৫, যার মধ্যে বাংলায় ২০টি এবং ইংরেজিতে ১৫টি। বাংলায় লেখা গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে জাসদের রাজনীতি – একটি নিকট বিশ্লেষণ (১৯৮১), বাংলাদেশের উন্নয়ন সমস্যা (১৯৮৭), বাংলাদেশের গ্রাম – অতীত ও ভবিষ্যত (২০১১), আগামী দিনের বাংলাদেশ (২০১২), পুঁজিবাদের পর কী (২০১৪/২০২৪), সাম্যবাদের ভবিষ্যত (২০২০), আগামী বাংলাদেশের জন্য দশ করণীয় (২০২৫), উন্নয়নের জন্য সুশাসন (২০২৫), এবং বাংলাদেশের রাজনীতি – সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (২০২৫)। ইংরেজি গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে Resurgent China: Issues for the Future (2009), Growth and Productivity across Nations (2016), Economies in Transition: China, Russia, Vietnam (2016), Let the Delta Be a Delta (2016), Rivers and Sustainable Development (2020), Water Development in Bangladesh: Past Present and Future (2022)। গবেষণার পাশাপাশি নজরুল ইসলাম বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজেও সক্রিয়। তিনি অভিবাসী বাংলাদেশীদের সংগঠন “বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন)”র প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) গঠনের উদ্যোক্তা। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত “সমাজ গবেষণা কেন্দ্রে”র তিনি প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক এবং এখনো এই সংগঠনের কাজে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করছেন। বইমেলার সাথে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা। ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত বইমেলারও তিনি আহ্বায়ক ছিলেন।
উদ্বোধক

জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী কথাশিল্পী। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি তাঁর কলমের জাদুতে দুই বাংলার পাঠকদের মোহাবিষ্ট করে রেখেছেন। গ্রামীণ জীবনের নিটোল প্রেম, সামাজিক টানাপোড়েন, মুক্তিযুদ্ধ এবং মানুষের অন্তর্গত আবেগ তাঁর উপন্যাসে জীবন্ত হয়ে ওঠে। তাঁর কালজয়ী উপন্যাস ‘নূরজাহান’ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত।
সাহিত্যের পাশাপাশি সাংবাদিকতায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য; তিনি দীর্ঘ সময় শীর্ষস্থানীয় দৈনিক 'কালের কণ্ঠ'-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিল্প ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক এবং বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার সহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তাঁর কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত নাটক ও চলচ্চিত্রগুলোও জননন্দিত।
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: নূরজাহান (তিন খণ্ড); পরাধীনতা; কালাকাল; কালো ঘোড়া; দেশভাগের পর; একাত্তর ও বিজয়; ভালোবাসার সুখ-দুঃখ
প্রধান অতিথি

অধ্যাপক রেহমান সোবহান বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান। ১৯৩৫ সালের ১২ মার্চ কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী এই গুণী ব্যক্তিত্ব ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। তাঁর পেশাজীবন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতার মাধ্যমে।
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ষাটের দশকে দুই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য তথা 'দুই অর্থনীতি' তত্ত্বের মাধ্যমে তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে তাত্ত্বিক ভিত্তি প্রদান করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি অস্থায়ী সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। স্বাধীনতার পর তিনি দেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন।
বিপুল সংখ্যক গ্রন্থ ও গবেষণাপত্রের রচয়িতা অধ্যাপক সোবহানকে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৮ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান 'স্বাধীনতা পদক'-এ ভূষিত করা হয়। তিনি আজও দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা হিসেবে সমাদৃত।
সম্মানিত অতিথি

অধ্যাপক ড. রওনক জাহান একজন প্রথিতযশা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, বিশিষ্ট নারী নেত্রী এবং লেখক। ১৯৪৪ সালে জন্মগ্রহণকারী এই গুণী ব্যক্তিত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। তিনি সত্তরের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপনা শুরু করেন এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ‘স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স’-এ গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন।
ড. জাহান বাংলাদেশে নারী মুক্তি আন্দোলন ও গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ এবং ‘উইমেন ফর উইমেন’ নামক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (CPD) ডিস্টিংগুইশড ফেলো হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় নীতিনির্ধারণী ও পরামর্শক হিসেবে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। জেন্ডার স্টাডিজ, রাজনীতি ও সুশাসন বিষয়ে তাঁর অসংখ্য গবেষণাপত্র ও গ্রন্থ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে তাঁর নিরলস বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই তাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। তাঁর জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের গবেষক ও সমাজকর্মীদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
সম্মানিত অতিথি

ফরিদুর রেজা সাগর বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, শিশুসাহিত্যিক এবং সফল চলচ্চিত্র প্রযোজক। ১৯৫৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী এই সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব বর্তমানে চ্যানেল আই এবং ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রখ্যাত পরিচালক ফজলুল হক এবং কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের সন্তান হিসেবে শৈশব থেকেই তিনি শিল্প-সংস্কৃতির আবহে বেড়ে উঠেছেন।
শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০০৫ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১৫ সালে ভাষা ও সাহিত্যে একুশে পদক লাভ করেন। তিনি কিশোরদের জন্য 'ছোটকাকু' সিরিজের মতো অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কালজয়ী গোয়েন্দা কাহিনী উপহার দিয়েছেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন ধারা তৈরি করেছেন এবং তাঁর প্রযোজিত বহু চলচ্চিত্র জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত হয়েছে। তাঁর হাত ধরে বাংলাদেশে আধুনিক টেলিভিশন সাংবাদিকতা এবং সৃজনশীল অনুষ্ঠান নির্মাণের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। শিল্প-সংস্কৃতিতে তাঁর বহুমুখী অবদান তাকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিশেষ অতিথি
আমন্ত্রিত লেখক
আমন্ত্রিত প্রকাশক











আমন্ত্রিত শিল্পী

Updates

পাঠকদের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে নিউ ইয়র্ক বইমেলা সমাপ্ত
June 17, 2019Book Fairবইমেলার পাশাপাশি গত তিনদিন শিল্প সাহিত্যের বিভিন্ন অনুষ্ঠান। আজ শেষদিন ছিল শুধু বইয়ের প্রদর্শনী। ভিন্ন একটি ভেন্যুতে পাঠকরা শুধু বই ক্রয় করতে এসেছেন। শেষদিনে পাঠকদের ভালবাসায় আমরা অভিভুত। গত ১৭ জুন সোমবার সন্ধ্যা ৯:০০ টায় জ্যুইশ সেন্টারে বাংলাদেশ থেকে আগত প্রকাশকদের বই প্রদর্শনী ও মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ২৮তম নিউ ইয়র্ক...

















